বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় তলানিতে ঢাকা

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩৭:পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২১

০৯ জুন ২০২১,

 

বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের নতুন র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। এই তালিকার শেষ দিক থেকে চার নম্বর স্থানে রয়েছে ঢাকা। বিভিন্ন দেশের শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৪০ টি শহরের র‍্যাংকিং প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় ১৩৭ নম্বরে রয়েছে ঢাকা।

নতুন এই জরিপ অনুসারে ২০২১ সালে বসবাস যোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপানের ওসাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড। ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, বসবাস যোগ্য শীর্ষ দশ শহরের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের দুটি, জাপানের দুটি, অস্ট্রেলিয়ার চারটি ও সুইজাল্যান্ডের দুটি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বসবাস যোগ্য শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থান রয়েছে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন শহর ও জাপানের টোকিও। একই নম্বর পেয়েছে এই দুই শহর। ষষ্ঠ অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ। সপ্তম, অস্টম, নবম ও দশম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যানন্ডের জুরিখ, জেনেভা এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে বসবাসযোগ্য শহরের ক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা এই তালিকায় শীর্ষে ছিল ২০১৮ সাল থেকে। কিন্তু এবার শীর্ষ দশ শহরের মধ্যে স্থান পায়নি ভিয়েনা। ২০১৯ সালে ভিয়েনার সঙ্গে একই পয়েন্টে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। সেই মেলবোর্ন এবার আট নম্বরে নেমে এসেছে।

করোনার মোকাবিলায় কোনো দেশ কেমন পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রভাব পড়েছে বসবাস যোগ্য শহরের তালিকায়। করোনা মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে এবার নন্দিত হয়েছে নিউজিল্যান্ড। ইআইইউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে নিউজিল্যান্ড কঠোর লকডাউন আরোপ করেছিল। এর ফলে দেশটির অকল্যান্ড, ওয়েলিংটনসহ বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়েছে। এসব শহরের মানুষেরা করোনাপূর্ববর্তী জীবনে ফিরে যেতে পেরেছে।

ইকোনোমিস্ট গত বছর বসবাসযোগ্য শহরের যে র‍্যাংকিং করেছিল তা বাতিল করা হয়েছিল। ফলে সর্বশেষ র‍্যাংকিং প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। সেই তালিকা অনুসারে বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা। বসবাসযোগ্যতার দিক দিয়ে ওই বছর ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৮তম। সেই হিসাব অনুসারে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে ঢাকার।

বিজ্ঞাপন

এবার বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় একেবারে তলানিতে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক। ১৪০ টি শহরের তালিকায় এর অবস্থান ১৪০ তম। ১৩৯তম অবস্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া লাগোস। ১৩৮তম অবস্থানে পাপুয়া নিউ গিনির পোর্ট মোরেসবি। এ ছাড়া ১৩৬ তম অবস্থানে আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, ১৩৫ তম অবস্থানে লিবিয়ার ত্রিপোলি ও ১৩৪ তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি।

বসবাসের যোগ্যতার দিক থেকে শহরগুলোর মোট পাঁচটি বিষয়কে সূচকে আমলে নেওয়া হয়। এর জন্য মোট ১০০ নম্বর ঠিক করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা পেয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ নম্বর। এর মধ্যে শহরের স্থিতিশীলতার দিক থেকে ৫৫, স্বাস্থ্যসেবায় ১৬ দশমিক ৭, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৩০ দশমিক ৮, শিক্ষায় ৩৩ দশমিক ৩ এবং অবকাঠামোতে ২৬ দশমিক ৮ নম্বর পেয়েছে ঢাকা।

২০১৯ সালে ঢাকা পেয়েছিল ৩৯ দশমিক ২ নম্বর। এর মধ্যে শহরের স্থিতিশীলতার দিক থেকে ৫৫, স্বাস্থ্যসেবায় ২৯ দশমিক ২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০ দশমিক ৫, শিক্ষায় ৪১ দশমিক ৭ এবং অবকাঠামোতে ২৬ দশমিক ২ নম্বর পেয়েছিল ঢাকা।